শান্তনু পত্রিকায় শিশুদের পাতা পড়ছিল। একটি শব্দ তাকে বেশ আকৃষ্ট করল। শব্দটি হলো 'সৃজনশীলতা'। শান্তনু তার মাকে প্রশ্ন করল 'আচ্ছা মা, সৃজনশীলতা কী'? মা বললেন- 'সৃজনশীলতা হলো নতুন কিছু সৃষ্টি করা। আবার কোনো কাজ নতুনরূপে নতুনভাবে করাটাও সৃজনশীলতা'। মা ঠিকই বলেছেন। নতুন কিছু তৈরি করা, যা ভালো কাজে লাগতে পারে বা কোনো কাজ নতুনভাবে করা এক ধরনের সৃজনশীলতা।
যেমন: মেঝেতে আলপনা আঁকা, কবিতা বা গল্প লেখা, ছবি আঁকা, পোকার আক্রমণ থেকে ধান ক্ষেত রক্ষার জন্য নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, কোন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা ইত্যাদি।
সৃজনশীলতা আমাদের সবার ভেতরেই থাকে। একেকজনের ভেতর থাকে একেক রূপে, একেকজন একেক বিষয়ে সৃজনশীল হয়ে থাকেন। আমাদের ভেতরের লুকানো সৃজনশীলতা আমরা নানা রকম কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করি।
সাদিয়া স্বপ্ন দেখে সে বড়ো হয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে। এখন থেকেই সে তার আশেপাশের নানারকম বাতিল বা ফেলে দেওয়া জিনিস-পত্র দিয়ে প্রয়োজনীয় অনেক কিছু বানায়। সে তার বাতিল কলমগুলো গলিয়ে পেপারওয়েট বানিয়েছে, পুরানো গ্লাস আর রঙিন কাগজ কেটে কলমদানি বানিয়েছে। শিক্ষক তার এসব বানানোর কথা শুনে বললেন- আমাদের সাদিয়া একজন সৃজনশীল মেয়ে।

এজাজ এবং তার কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করল যে তারা তাদের শ্রেণিকক্ষকে সুন্দর করে সাজাবে। তাই এজাজ ও তার বন্ধুরা মিলে বেশকিছু রঙিন কাগজ সংগ্রহ করল। তারপর তারা সেসব কাগজ কেটে বিভিন্ন রকম সুন্দর সুন্দর ফুল-পাতা-পাখি বানিয়েছে। সেসব ফুল-পাতা-পাখি দিয়ে তারা সুন্দর করে তাদের শ্রেণিকক্ষ সাজিয়েছে। খবর শুনে প্রধান শিক্ষক দেখতে এলেন। তিনি সবার এই সৃজনশীল উদ্যোগ ও কাজের খুব প্রশংসা করলেন। সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন- শুধু শ্রেণিকক্ষ নয় বরং সবাই আমরা আমাদের নিজেদের ঘর, পড়ার টেবিল কীভাবে সাজিয়ে রাখি ইত্যাদিও সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।
তোমরা কি কখনো ভেবেছ, আমরা কীভাবে নতুন নতুন জিনিস বানাই, কীভাবে এসব নিত্যনতুন জিনিস বানাবার বুদ্ধি পাই? আসলে আমরা সচেতন এবং অবচেতন উভয় অবস্থায় আমাদের চারপাশের নানা বস্তু, বিষয় ও ঘটনা নিয়ে ভাবি। ভাবনার ভেতরেই নতুন বুদ্ধি চলে আসে।

তাই আমরা যদি সৃজনশীল হতে চাই, তবে আমাদের নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে, মনের ভেতর থেকে নতুন, সুন্দর এবং প্রয়োজনীয় কোনো কিছু করতে চাইতে হবে।
Read more